প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৮:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
এসডিজি অর্জনে দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি: বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী
আজিজুল হক নিউটন :
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে গতানুগতিক কাজ নয়, ফলপ্রসূ ও দৃশ্যমান উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। তিনি বলেন, ভিত্তি উপাত্ত ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ ছাড়া শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এসডিজি বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সম্পর্কিত বিভাগীয় কমিটির ১৯তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সঞ্চালনা করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। এতে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ের দপ্তরপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার নির্দেশনা দেন, এসডিজির নির্ধারিত টার্গেট অনুযায়ী প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের অর্জন ও অগ্রগতি পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, এসডিজির টার্গেট কী, সেই টার্গেট অনুযায়ী কোথায় দাঁড়িয়ে আছি- তা পাই চার্টসহ স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অনেক পরিবারই জানে না যে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনসহ এসডিজি বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দসহ নানা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই বার্তা মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।
শুরুতে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এসডিজির ১৭টি অভীষ্ট ও ২৬৯টি টার্গেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। আলোচনায় বলা হয়, “কাউকে পিছনে ফেলে নয়”- এই মূল দর্শনকে সামনে রেখেই এসডিজি-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এতে ব্যক্তি ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কর্মকর্তারা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে মতামত দেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, সব দপ্তরই এসডিজি অর্জনে কাজ করছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন সমাজে যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়। ফলে পরিসংখ্যান অনুযায়ী নেগেটিভ প্রবণতা বাড়ছে। মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বরের বিপরীতে তথ্য সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের পর নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর জীবনমানে কী পরিবর্তন এসেছে- তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, “গতানুগতিক নয়, ভিজ্যুয়ালাইজ কাজ চাই। এসডিজি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নির্দেশক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে একটি দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
Copyright © 2026 দৈনিক জনতার খবর. All rights reserved.