1. admin@dainikjanatarkhabor.com : admin :
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানকে ঘিরে বাজারে কড়াকড়ি নজরদারি, অসাধুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার তালতলায় বাস–সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ ইউএমএফ বাগেরহাট জেলা কমিটি গঠন, সভাপতি সৈকত মন্ডল, সম্পাদক সাগর মল্লিক ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন দিঘারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু বাগেরহাটের ৫৪৭ ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম বিতরণ শুরু ময়মনসিংহে শাটার নামিয়ে দোকানের ভেতর হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, লুট নগদ টাকা ও মালামাল। বাগেরহাটে নিক্সন মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, ১৩ দোকান ও একটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময়। ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মীদের হামলার অভিযোগ, জামায়াতের ৪ কর্মী ও এক নারী আহত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মহিষ পালনের আধুনিক প্রযুক্তিতে খামারি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৫১ বার পঠিত

 

মোস্তাফিজার রহমান(জাহাঙ্গীর)
স্টাফ রিপোর্টারঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় “মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গত শনিবার (১৭ই জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণটি সোমবার (১৯ই জানুয়ারি ২০২৬)
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই), সাভার, ঢাকা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আনোয়ারা, চট্টগ্রামের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত হয়। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৫০ জন নির্বাচিত মহিষ খামারী অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রকল্প পরিচালক বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে লাভজনক মহিষ পালনে প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ে আলোচনা করেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মহিষ থেকে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খামারি আর্থিকভাবে লাভবান হয়। উন্নত জাত নির্বাচন, কৃত্রিম প্রজনন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগ কমানো সম্ভব। সাইলেজ ও ইউএমএস ব্যবহারে খাদ্য সংকট দূর হয় এবং আধুনিক শেড ও পরিষ্কার পরিবেশ মহিষের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রাণী চিকিৎসা ও খামার ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রযুক্তিনির্ভর মহিষ পালনকে উৎসাহ দিচ্ছে, তবে এখনও অনেক খামারির প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। তাই লাভজনক ও টেকসই মহিষ পালনের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন মহিষ পালন দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুধ, মাংস ও চামড়া সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি মহিষ পালনের মাধ্যমে কৃষক ও খামারির আয় বৃদ্ধি পায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও লাভজনকতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ আতিয়ার রহমান, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চট্টগ্রাম। তিঁনি উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহিষ পালনের সম্ভাবনা বিষয়ে আলোচনা করেন। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহিষ পালন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মহিষ পালনের জন্য উপযোগী হওয়ায় অল্প খরচে খামার স্থাপন করা যায়। মহিষ পালন থেকে দুধ উৎপাদন, পশু পরিচর্যা ও খামার ব্যবস্থাপনায় সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গোবর সার উৎপাদনের মাধ্যমে অপ্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পায় মহিষের দুধের উচ্চ বাজারমূল্য তরুণদের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. আলমগীর, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম । তিঁনি বলেন মহিষ উৎপাদনে আন্তঃপ্রজনন একটি বড় সমস্যা, যার ফলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। এই সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রজনন ষাঁড় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, যাতে জেনেটিক বৈচিত্র্য বজায় থাকে। কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নত জাতের বীর্য ব্যবহার করে গুণগত বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি ইস্ট্রাস সিনক্রোনাইজেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সময়ে মহিষের হিট নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক সময়ে প্রজনন নিশ্চিত করা যায়। এসব প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারে প্রজনন দক্ষতা ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা লাভজনকভাবে মহিষ পালন, উন্নত জাত নির্বাচন, প্রজনন ব্যবস্থাপনা, স্বল্প খরচে দুধালো মহিষের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, সুষম দানাদার খাদ্য মিশ্রণ, সাইলেজ ও ইউএমএস তৈরির কৌশল, গর্ববতী ও দুগ্ধবতী মহিষের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা, টিকা ও কৃমি নিয়ন্ত্রণসহ মহিষের স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কোর্সের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন বিএলআরআই এর মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ মঈন উদ্দিন।

খামারীরা প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষকরা  জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই ও লাভজনক মহিষ খামার গড়ে তোলার বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মহিষের গুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকা ও উন্নত জাতের বীজ সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক জনতার খবর
Theme Customized By Shakil IT Park