প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৮:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ডিবি পুলিশের সফল অভিযানে চাচার হোটেল মালিকের বাসায় দস্যুতার রহস্য উদঘাটন মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার প্রায় তিন লাখ টাকা।

আজিজুল হক নিউটন :
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বহুল আলোচিত চাচার হোটেলের মালিক খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদমের বাসায় সংঘটিত দস্যুতার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদম (৫১) নিজ বাসার দরজার তালা খোলার সময় পেছন দিক থেকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং চিৎকার করতে নিষেধ করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে তিনি তার স্ত্রী ও চাচার হোটেলের ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান দুদু মিয়াকে বিষয়টি জানান। ঘর তল্লাশি করে দেখা যায়, খাটের নিচে রাখা একটি ট্রাঙ্ক ভেঙে সেখানে সংরক্ষিত নগদ ২৩ লাখ টাকা এবং আনুমানিক দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি এফআইআর নং-৬৩, তারিখ ২০ জুন ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় রুজু হয়।
পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-এর নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাঁচিঝুলি এলাকার ২৫/খ গোলাপজান রোড থেকে স্বপ্না (৪৩), পিতা- আব্দুর রহিম, স্বামী- ইমরান সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামির বসতঘর তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে মামলার বাদীর লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
Copyright © 2026 দৈনিক জনতার খবর. All rights reserved.