মিজানুর রহমান,রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে রাঙ্গুনিয়া বেতাগীর যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫)-কে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যও ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জানা যায়, নিহতের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাউজান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মেহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মেহাম্মদ ইউসুফসহ মোট ১১ জন। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েকজন আসামিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ জুন) বেলা দেড়টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল হক চৌধুরী। এ সময় ৫ থেকে ৭ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অন্য একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে অনুসরণ করে বাজারে পৌঁছে। বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ানোর পরপরই সন্ত্রাসীরা অটোরিকশা থেকে নেমে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন মাসুদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মগজ বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিদের একজন মোহাম্মদ রায়হান চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।