
মিজানুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ধামাইরহাট, সোনারগাঁও থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘হাতিমারা’ এলাকা। পাহাড়ি ঢাল আর সবুজের মিতালিতে ঘেরা এই অঞ্চলের প্রায় ৫ একর (১৫ কাণি) জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফলের এক বিশাল বাগান।
এই সবুজ বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যাপক জনাব আব্দুল গফুর (৫৮)। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষির প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন এই দৃষ্টিনন্দন ফলজ বাগান।
বৈচিত্র্যময় ফলের সমাহার:
প্রফেসর আব্দুল গফুরের এই বাগানে পা রাখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় সারি সারি ফলদ বৃক্ষ দেখে। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা এই বাগান।
বাগানটিতে রয়েছে:
আম: উন্নত জাতের প্রায় ২০০টি দেশি-বিদেশি আম গাছ। বড়ই (কুল): চমৎকার উন্নতমানের ১৭৫টি বড়ই গাছ। রয়েছে ড্রাগন ফল: পুষ্টিগুণে ভরপুর ১০০টি ড্রাগন গাছ। পেঁপে: দ্রুত ফলনশীল ১০০টি পেঁপে গাছ। তাছাড়াও বাগান জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন জাতের নারিকেল, সুপারি, লিচু ও কমলাসহ হরেক রকমের ফলজ গাছ।
বাগানের মালিক জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবং সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে প্রতিটি গাছেই আশাতীত ও বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাগানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রফেসর আব্দুল গফুর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগের সাথে। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং ব্লক সুপারভাইজারের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং বিভিন্ন ধরণের কারিগরি দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন।
তবে বাগানটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে সরকারি অনুদান বা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পেলে তিনি আরও উপকৃত হতেন বলে এ কথা বলেন।
প্রধান সমস্যা: যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা। একদিকে বাম্পার ফলনের আনন্দ, অন্যদিকে যাতায়াতের কষ্ট। এই দুই মিলিয়ে কাটছে বাগানের দিনগুলো। ধামাইরহাট সোনারগাঁও থেকে হাতিমারা বাগান পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই কাঁচা রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় বাগানের পরিচর্যা ও উৎপাদিত ফল বাজারে নেওয়া ভীষণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। যদি রাস্তাটি সংস্কার বা মেরামত করে দেওয়া হয়, তবে বাগানের কাজ করা আরও সহজ হতো এবং তিনি কাজে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারত — প্রফেসর আব্দুল গফুর
চলতি মৌসুমে বাগানে প্রচুর পরিমাণে ফল আসায় বাগান মালিক সরাসরি গাছ পাকা তাজা ফল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত ও ফরমালিনবিহীন এসব দেশি-বিদেশি ফল পাইকারি এবং খুচরা—উভয় দরেই বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।