
নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি অনন্য ও স্মরণীয় নাম। স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেক্টর কমান্ডার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি জাতীয় ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ের পুনর্পাঠ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেদিন । আজও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করেন। কারণ জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের এক সাহসী স্বপ্নদ্রষ্টা।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব থেকেই তিনি মেধাবী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিলেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সামরিক একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় জাতি লাভ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নে, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেই ঘোষণা যুদ্ধবিধ্বস্ত ও আতঙ্কিত জাতির মধ্যে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে অসামান্য নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বে আসেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তাঁর শাসনামলে কৃষি, শিল্প ও গ্রামীণ উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সমর্থকরা মনে করেন।
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য তাঁর নেওয়া খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। “৬৮হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে”—এই দর্শনকে সামনে রেখে তিনি পল্লী উন্নয়নে গুরুত্ব দেন। তাঁর সময়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তাঁর রেখে যাওয়া গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য তাঁর নেওয়া খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। আজ তাঁর ছেলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সে সব উন্নয়ন প্রকল্প সহ নুতন নুতন বাস্তবায়োনের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের প্রথম একশ’ দিনে দুইশ’ উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে জনজীবন ও সমাজে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা জাতির সামনে নতুন আশাবাদ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট ছিলেন। মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধারণা প্রদানের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল নানা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জে পূর্ণ। ক্ষমতা গ্রহণের প্রক্রিয়া, সামরিক শাসনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও রয়েছে। কিন্তু সমর্থকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আজ তাঁর ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় সেই সাহসী সৈনিককে, যিনি স্বাধীনতার সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে আশা ও সাহস জুগিয়েছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাসে তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। তিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রনায়ক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তাঁর জীবন যেমন সংগ্রাম, সাহস ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বল, তেমনি তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাময় অধ্যায় হয়ে আছে। প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় একজন সাহসী সৈনিক ও দূরদর্শী নেতার অবদানের কথা।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর শোকের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেই এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। মৃত্যুর চার দশক পরও তিনি দেশের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারিত হয় বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই ঘোষণা স্বাধীনতাকামী বাঙালির মনে সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক এবং পরে জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতা ও নেতৃত্বের জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের নেতৃত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। প্রশাসনিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক সংঘাত দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর অন্যতম বড় অবদান ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক কার্যক্রম যখন সীমিত হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুযোগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ তাঁর শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গ্রাম ও কৃষির উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর জনপ্রিয় স্লোগান ছিল—“গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।” এই চিন্তাধারা থেকেই তিনি খাল খনন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে জোর দেন। তাঁর সময়ে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং খাদ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।
শুধু কৃষি নয়, শিল্প ও বাণিজ্য খাতেও তিনি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেন। বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করার চেষ্টা করেন। তাঁর সময়ে পোশাকশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী নেতা। মুসলিম বিশ্ব, পশ্চিমা দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক প্রতিষ্ঠার ধারণা ও উদ্যোগের পেছনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার চিন্তা ছিল তাঁর কূটনৈতিক দূরদর্শিতার প্রতিফলন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত ছিল না। সামরিক শাসনের প্রভাব, ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া এবং কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এটিও সত্য যে, তিনি স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

আজ তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবার ও দলটি ও তার সহযোগি সংগঠন দেশের জেলা উপজেলায় নানা কর্মসূচীসহ আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে । তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন শেখায়—সাহস, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে রাখতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তাঁর কণ্ঠ আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিধ্বনিত হয়। তাঁর আত্মত্যাগ, রাষ্ট্রগঠনের উদ্যোগ এবং জাতীয় উন্নয়নের দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে সাবেক মহান রাষ্ট্রপতির আত্নার প্রতি শান্তি কামনা করি। মহান আল্লাহ্তালা তাঁকে জানাত নসিব করুন আমিন।