আজিজুল হক নিউটন :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় অবৈধ পণ্য চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন আলম মিয়া, স্থানীয়ভাবে যিনি ‘গরু আলম’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নিষিদ্ধ ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য দেশে আনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী, ঝলঝলিয়া, গাবড়াখালী, কড়ইতলী, আয়নাতলীসহ বিভিন্ন স্পট দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে আলম মিয়ার নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় গরু, জিরা, কম্বল, কসমেটিকস, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি কয়লার সঙ্গে মাদকও চোরাই পথে দেশে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে আলম মিয়া তার কথিত চোরাচালান ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে তার সেই আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর কাছে আলম মিয়া নামটি যতটা পরিচিত, তার চেয়ে ‘গরু আলম’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে তার প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, চোরাচালান নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য এবং কিছু সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার মাধ্যমে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলম মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিষয়টি জানতে হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে ২০ মিনিট পর কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তদন্ত ও অভিযান এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।