1. admin@dainikjanatarkhabor.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মশিন্দা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, বনপাড়ার জাহেদা ক্লিনিক অপারেশনের পর সার্জিক্যাল পার্টস রেখেই সেলাই আনোয়ারা বেগমের বাম পা কেটে ফেলার উপক্রম গুরুদাসপুরে একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫ অনুষ্ঠিত ইসলাম নিয়ে কটূক্তিকারী শিমুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি। স্ত্রী ও শাশুড়ী কে নির্যাতনের অভিযোগ জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গুরুদাসপুরে পেট্রোল পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, ২০ লাখ টাকার ক্ষতি; পুড়েছে দোকান ও বসতবাড়ি। গুরুদাসপুরের বালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও, বিষানি নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গুরুদাসপুর উপজেলা খুচরা কার্ড ধারী সার ডিলার সমিতির নির্বাচন সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক, আতিকুর রহমান অবশেষে ইসলাম ধর্মকে কটূক্তি করা হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার,হিন্দু সমাজচ্যুত যুবক ইসলাম ধর্মকে অবমাননা হিন্দু ধর্মের শিমুলকে সমাজচ্যুত

এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২০৫ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন’ বলে জানিয়েছিলেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ২টার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকালবেলা মেডিকেল বোর্ড হয়েছিল। কাজেই এই অবস্থায় (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত সংকটময় একটি সময় অতিক্রম করছেন।’

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছিল। পরে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে উনার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় বিদেশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক জনতার খবর
Theme Customized By Shakil IT Park