আজিজুল হক নিউটন :
ময়মনসিংহ নগরীর শিকারীকান্দায় অবস্থিত যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিনিয়র প্রশিক্ষক (পশু পালন) মো. শহিদুল ইসলাম (৪৯)-এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলায় তার এক সহকর্মীও আহত হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭ মে ( বৃহস্পতিবার) ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে কেন্দ্রের বাবুর্চি মো. সলিমুল্লাহ (৫৮), বর্তমানে প্রেষণে গাজীপুরে কর্মরত, তার ছেলে মো. সোহেল (৩২) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তারা কিছু কাগজপত্র সত্যায়িত করার জন্য শহিদুল ইসলামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি সেগুলো অবৈধ ও অযৌক্তিক হওয়ায় সত্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সলিমুল্লাহ প্রথমে শহিদুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে তার ছেলে ও আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন। পরে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা শহিদুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকলে শহিদুল ইসলাম শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, সলিমুল্লাহর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর জখম হন।
এ সময় সহকর্মী মো. রোকনুজ্জামান (৪৯) হামলা ঠেকাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তার চোখ, মুখ ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার কাছে থাকা অফিসের গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। পরে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত শহিদুল ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলামকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং রোকনুজ্জামানকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।